অতিরজস্রাব
Metrorrhagia
অতিরজস্রাব (Metrorrhagia)
হলো মাসিক বা
ঋতুস্রাবের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া, অথবা
স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রক্তপাত চলতে থাকা। ইহা একটি সাধারণ
গাইনোকোলজিক সমস্যা এবং বিভিন্ন কারণে হতে পারে।
অতিরজস্রাবের সংজ্ঞা (Definition):
মাসিক প্রতি চক্রে
যদি রক্তপাত হয় ৮০ মিলিলিটার বা তার বেশি। বা রজঃচক্র ৭ দিনের বেশি স্থায়ী হয়।
কিংবা এক ঘণ্টার মধ্যে একাধিক প্যাড পরিবর্তন করতে হয়। তবে সেটিকে
"অতিরজস্রাব" ধরা হয়।
অতিরজস্রাবের লক্ষণসমূহ:
প্রতি ঘণ্টায় প্যাড ভিজে
যায়। রাতেও রক্তপাত হওয়ার কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। বড় রক্তের দানা বা ত্রুট পড়ে।
দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি (রক্তস্বল্পতার কারণে)।
দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে।
অতিরজস্রাব কেন হয় (কারণসমূহ):
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা:
ইস্ট্রোজেন ও
প্রোজেস্টেরনের ভারসাম্য নষ্ট হলে অতি রক্তপাত হতে পারে। PCOS (Polycystic Ovary Syndrome)
বা থাইরয়েড সমস্যায় সাধারণত এমনটা হয়।
ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড (Uterine Fibroids):
জরায়ুর মধ্যে
থাকা নিরীহ টিউমার (Myoma) অতিরিক্ত রক্তপাত ঘটাতে পারে।
এন্ডোমেট্রিসিস (Endometrissis):
জরায়ুর
অভ্যন্তরীণ পর্দা জরায়ুর বাইরেও বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে।
এডিনোমায়োসিস (Adenomyosis):
জরায়ুর ভেতরের
টিস্যু জরায়ুর পেশিতে ঢুকে পড়লে এই সমস্যা দেখা দেয়।
জরায়ুর পলিপ (Endometrial Polyps):
জরায়ুর আস্তরণের
মধ্যে ছোট পলিপ থাকলে অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে।
জরায়ুর ক্যান্সার বা প্রি-ক্যান্সার:
বিশেষ করে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সে এসব কারণ বিবেচনা করতে হয়।
কোনও গর্ভনিরোধক (IUD):
কপার IUD ব্যবহারে অনেক সময় রক্তপাত বেড়ে যায়।
রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা (Coagulation Disorders):
যেমন Von Willebrand Disease ইত্যাদি।
ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন
ওয়ারফারিন, এসপিরিন বা অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ওষুধ।
ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়:
রক্তাল্পতা (Anemia) শারীরিক
দুর্বলতা। দৈনন্দিন কাজের ব্যাঘাত। বন্ধ্যাত্ব বা গর্ভধারণে সমস্যা (যদি অন্যান্য
সমস্যা যুক্ত থাকে)
পরীক্ষা নিরীক্ষা:
রক্তের হিমোগ্লোবিন (Hb) পরীক্ষা।
থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট। আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (USG Pelvis). PAP smear. হরমোন পরীক্ষা। কখনো কখনো বায়োপসি।
চিকিৎসা:
Sabina- অতিরিক্ত উজ্জ্বল
লাল রক্তস্রাব রক্তে জমাট বা গেঁজ (clots) থাকে, কোমরের নিচের দিকে ব্যথা অনুভূতি হয়, গর্ভাশয়ের
রক্তপাত যদি গন্ধযুক্ত হয়।
Hamamelis Virginica- গাঢ় রঙের রক্তপাত,
টাটানি ব্যথা, শিরা ও কৈশিক রক্তনালীর
দুর্বলতা ওক্তচাপ কমে যাওয়া।
Millifolium- আঘাতজনিত বা
স্বতঃস্ফূর্ত রক্তপাত, হঠাৎ শুরু হওয়া রক্তপাত। ব্যথাহীন
প্রচুর রক্তস্রাব।
Erigeron Canadensis- রক্তপাতের সময়
প্রস্রাবের চাপ বৃদ্ধি পায়, পাতলা, উজ্জ্বল
লাল রক্ত, অল্পতেই রক্তপাত শুরু হয়ে যায়। গর্ভধারণকালীন বা
প্রসব-পরবর্তী রক্তপাতেও কার্যকর, হাঁটার বা সামান্য নড়াচড়ার
পর রক্তপাত বেড়ে যাওয়া বারবার রক্তপাত হলেও ক্লট না থাকা।
Belladonna- হঠাৎ করে প্রচুর
রক্তস্রাব শুরু হয় রক্ত উজ্জ্বল লাল এবং গরম। শরীর গরম হয়ে যায়, মুখ লাল হয়ে যায়, মাথা ব্যথা, চোখে
জ্বালা।
Lachesis- মাসিক বিলম্বে আসে,
খুব বেশি পরিমাণে হয়। গরমে সমস্যা বাড়ে, ঠান্ডা
পছন্দ করে, চাপ লাগলে বা শক্ত জামা পড়লে অস্বস্তি বাম পাশের
সমস্যায় বেশি কার্যকর।
Secale Cornutum- পাতলা, গাঢ়, ঘন এবং দুর্গন্ধযুক্ত রক্তস্রাব। বার্ধক্যজনিত
মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত। ত্বক শুষ্ক ও ঠান্ডা কিন্তু গরম বাতাস পছন্দ করে,
শরীর দুর্বল এবং ওজন কমে যায়।
Calcarea Carbonica- স্কুল বা বেশি
ওজনের নারীদের জন্য উপযোগী। স্রাব দীর্ঘস্থায়ী এবং নিয়মিত নয়। অতিরিক্ত ঘাম,
বিশেষ করে মাথায়, ঠান্ডা সহজে লাগে।
Phosphorus- উজ্জ্বল লাল এবং
পাতলা রক্ত, প্রতিবার মাসিকে দুর্বলতা আসে, ছোট ছোট আঘাতে রক্ত পড়ে, কোমল প্রকৃতির, সংবেদনশীল রোগীদের জন্য, সামান্য পরিশ্রমেই দুর্বল
হয়ে পড়া, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড়, চুল পড়া, ক্ষুধামান্দ্য।
China (Cinchona)- অতিরিক্ত
রক্তস্রাবের ফলে দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা রক্তপাতের পর প্রচন্ড দুর্বলতা অনুভূতি হয়
রক্তপাত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে
Trillium Pendulum- অতিরিক্ত
রক্তস্রাব যা চলার সময় বেড়ে যায় রক্ত উজ্জ্বল লাল, অনেক সময়
গাঢ় হতে পারে রক্তস্রাবের কারণে মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা, গর্ভাশয়ের
রক্তপাত চলাকালীন কোমরেও ব্যথা হয়।
Ipecacuanha- মাসিকের সঙ্গে
প্রচন্ড বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত স্রাবের সঙ্গে তলপেটে
কষ্টদায়ক ব্যথা, উজ্জ্বল লাল রক্ত, জমাট
না থাকলেও হতে পারে
Crocuss Sativus- গাঢ় রঙের, কালো বা গাঢ় লাল রক্ত, রক্তে লম্বা থ্রেড বা সুতার
মতো জমাট থাকে, মানসিকভাবে উত্তেজিত, মনোভাব
বদলায় দ্রুত, মাসিকের সময় মানসিক অস্থিরতা থাকে
Ferrum Metallicum- অতিরিক্ত
রক্তস্রাবের কারণে রক্তশূন্যতা (anemia), মুখ ফ্যাকাশে,
ঠোঁটও চোখের নিচে সাদা, সামান্য পরিশ্রমেই
ক্লান্তি, গরম সহ্য হয় না, ঠান্ডা
পছন্দ করে।
Ustilago Maydis- দীর্ঘস্থায়ী
রক্তস্রাব রক্তে জমাট পড়ে ওক্তস্রাবের সঙ্গে গর্ভাশয়ের জ্বালা বা চুলকানি, মাসিক অনিয়মিত ও কষ্টদায়ক, গর্ভাশয়ের অতিরিক্ত
রক্তস্রাবের প্রবণতা
Thlaspi Bursa Pastoris- রক্তস্রাব এতো ঘন
হয় যে দুই মাসিকের মাঝেও রক্ত যায়, গর্ভাশয়ে পাথর বা
ফাইব্রয়েড থাকলে উপকারী, মাসিক অনিয়মিত, দেরিতে শুরু হয় বা মাঝে বন্ধ হয়ে যায়, গর্ভাশয়ে ভারী
বা চাপ অনুভূতি হয়
